এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চুলের রং বা কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের পর মুখ, চোখ বা ঠোঁট দ্রুত ফুলে গেলে বা শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
নতুন সাবান, নতুন কানের দুল, তারপর র্যাশ
নতুন ডিটারজেন্ট দিয়ে কাপড় ধোয়ার কয়েক দিন পর হাত খসখসে ও লাল হয়ে গেল। অথবা সস্তা কানের দুল পরার পর কানের লতিতে চুলকানি ও রস বের হওয়া। কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে কালো মেহেদি লাগানোর দুই দিন পর হাতে ফোসকা। এই সবগুলো ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বিষয় আছে: ত্বক বাইরের কোনো পদার্থের সংস্পর্শে এসে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস (Contact Dermatitis)।
কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস খুবই সাধারণ, এবং এর ভালো দিক হলো কারণটি খুঁজে পেলে ও এড়িয়ে চলতে পারলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। কঠিন অংশ হলো কারণটি খুঁজে বের করা, কারণ প্রতিক্রিয়া সবসময় সংস্পর্শের সঙ্গে সঙ্গে হয় না।
দুই ধরনের কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস
একই রকম দেখতে হলেও এর পেছনে দুটি আলাদা প্রক্রিয়া কাজ করে।
১. ইরিট্যান্ট কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস: এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরন। এখানে কোনো অ্যালার্জি নেই; পদার্থটি সরাসরি ত্বকের সুরক্ষা স্তর (ব্যারিয়ার) ক্ষতিগ্রস্ত করে। যেকোনো মানুষেরই এটি হতে পারে, যদি সংস্পর্শ যথেষ্ট বেশি বা দীর্ঘ হয়। বারবার পানিতে হাত ভেজানো, ডিটারজেন্ট, বাসন মাজার সাবান, ব্লিচ, কেরোসিন, সিমেন্ট, কড়া ক্লিনার এবং এমনকি অতিরিক্ত সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া এর সাধারণ কারণ। গৃহিণী, রান্নার কাজে নিয়োজিত মানুষ, স্বাস্থ্যকর্মী, সেলুনকর্মী, নির্মাণশ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। হাতের ক্ষেত্রে এটি নিয়ে বিস্তারিত আছে আমাদের হাতের একজিমা ও ফাটল বিষয়ক লেখায়।
২. অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস: এখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট পদার্থকে “শত্রু” হিসেবে চিনে ফেলে। প্রথম সংস্পর্শে সাধারণত কিছু হয় না; শরীর ধীরে ধীরে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। পরে সেই পদার্থের সামান্য সংস্পর্শেও প্রতিক্রিয়া হয়। এই প্রতিক্রিয়া সাধারণত সংস্পর্শের এক থেকে তিন দিন পরে শুরু হয়, তাই অনেকে আসল কারণটি ধরতে পারেন না। একবার এই অ্যালার্জি তৈরি হলে তা সাধারণত দীর্ঘদিন, অনেক সময় সারাজীবন থাকে।
লক্ষণ কেমন হয়
- সংস্পর্শের জায়গায় লাল, চুলকানিযুক্ত বা জ্বালাপোড়া করা র্যাশ
- র্যাশের সীমানা প্রায়ই সংস্পর্শের আকার অনুযায়ী হয় — যেমন ঘড়ির বেল্টের নিচে, আংটির নিচে, বা স্যান্ডেলের ফিতার দাগ বরাবর
- তীব্র অবস্থায় ছোট ফোসকা, রস বের হওয়া ও পরে শুকিয়ে খোসা ওঠা
- দীর্ঘদিন চললে ত্বক পুরু, খসখসে ও ফাটা ফাটা হয়ে যাওয়া
- ইরিট্যান্ট ধরনে জ্বালা ও টান ভাব বেশি; অ্যালার্জিক ধরনে চুলকানি বেশি
অ্যালার্জিক ধরনে র্যাশ মূল সংস্পর্শের জায়গা ছাড়িয়েও ছড়াতে পারে। যেমন হাতে লাগানো নেইলপলিশের অ্যালার্জি অনেক সময় চোখের পাতায় বা ঘাড়ে দেখা দেয়, কারণ আমরা না বুঝে সেসব জায়গা হাত দিয়ে স্পর্শ করি।
বাংলাদেশে সাধারণ উৎসগুলো
নিকেল: অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিসের সবচেয়ে পরিচিত কারণগুলোর একটি। সস্তা বা নকল গয়না, কানের দুল, নাকফুল, চুড়ি, বেল্টের বকলস, জিন্সের ধাতব বোতাম, ঘড়ির পেছনের অংশ ও মোবাইল ফোনের ধাতব কভারে নিকেল থাকতে পারে। নাভির নিচে গোল চুলকানিযুক্ত দাগ অনেক সময় জিন্সের বোতামের নিকেল থেকে হয়।
চুলের রং ও কালো মেহেদি: স্থায়ী চুলের রঙে প্যারা-ফিনাইলিনডায়ামিন (PPD) নামের একটি রাসায়নিক থাকে, যা শক্তিশালী অ্যালার্জেন। প্রতিক্রিয়ায় মাথার ত্বক, কপাল, কান ও ঘাড়ে চুলকানি, লালভাব ও ফোলা হতে পারে; তীব্র ক্ষেত্রে মুখ ও চোখ ফুলে যায়। প্রাকৃতিক মেহেদি সাধারণত কমলা-বাদামি রং দেয় এবং এতে অ্যালার্জি তুলনামূলক বিরল। কিন্তু দ্রুত গাঢ় কালো রং দেওয়ার জন্য বাজারের কিছু “কালো মেহেদি” বা “ইনস্ট্যান্ট মেহেদি”-তে PPD মেশানো থাকতে পারে। এতে ফোসকা, ক্ষত ও মেহেদির নকশা বরাবর দীর্ঘস্থায়ী দাগ হতে পারে, এবং পরবর্তীতে চুলের রঙেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সুগন্ধি: পারফিউম, বডি স্প্রে, সুগন্ধি সাবান, লোশন, আগরবাতি ও ফ্যাব্রিক সফটনার। “প্রাকৃতিক” বা “হার্বাল” লেখা থাকলেই সুগন্ধিমুক্ত নয়; অনেক উদ্ভিজ্জ তেলও অ্যালার্জেন হতে পারে।
প্রিজারভেটিভ: ক্রিম, শ্যাম্পু, ভেজা টিস্যু (ওয়েট ওয়াইপস) ও কিছু প্রসাধনীতে থাকা কিছু প্রিজারভেটিভ অ্যালার্জি ঘটাতে পারে।
রাবার ও গ্লাভস: রাবারের গ্লাভস, স্যান্ডেল, ইলাস্টিক এবং এগুলো তৈরির রাসায়নিক। এখানে একটি দ্বন্দ্ব আছে: ডিটারজেন্ট থেকে হাত বাঁচাতে গ্লাভস পরা হয়, অথচ গ্লাভসও কারও কারও সমস্যার কারণ হতে পারে।
সিমেন্ট: সিমেন্টে থাকা ক্রোমিয়াম (ক্রোমেট) নির্মাণশ্রমিকদের হাতে ও পায়ে দীর্ঘস্থায়ী ডার্মাটাইটিসের একটি পরিচিত কারণ। ভেজা সিমেন্ট ক্ষারীয় হওয়ায় এটি সরাসরি ত্বকও পোড়াতে পারে।
ত্বকে লাগানো ওষুধ: কিছু অ্যান্টিবায়োটিক মলম, কিছু স্থানীয় অ্যানেস্থেটিক এবং এমনকি কিছু স্টেরয়েড ক্রিমও কারও কারও অ্যালার্জি ঘটায়। যদি কোনো মলম লাগানোর পর র্যাশ ভালো না হয়ে বরং বাড়ে, তাহলে মলমটিই কারণ কিনা ভাবা দরকার।
গাছপালা: কিছু গাছের রস, আম গাছের কষ ও কাঁচা আমের খোসার রস কারও কারও ঠোঁট ও মুখের চারপাশে প্রতিক্রিয়া ঘটায়।
জায়গা দেখে কারণের ইঙ্গিত
| র্যাশের জায়গা | সম্ভাব্য উৎস |
|---|---|
| কানের লতি, গলা, কবজি | ধাতব গয়না (নিকেল) |
| নাভির নিচে গোল দাগ | জিন্সের বোতাম বা বেল্টের বকলস |
| চোখের পাতা | নেইলপলিশ, মাসকারা, আইশ্যাডো, আই ড্রপ, হাত দিয়ে স্পর্শ করা যেকোনো পদার্থ |
| কপাল, কান ও ঘাড়ের পেছনে চুলের রেখা বরাবর | চুলের রং, শ্যাম্পু, হেয়ার অয়েল |
| বগল | ডিওডোরেন্ট বা বডি স্প্রে |
| পায়ের পাতার উপরিভাগ | স্যান্ডেল বা জুতার রাবার ও আঠা |
| হাতের তালু ও আঙুল | ডিটারজেন্ট, রান্নার মশলা, গ্লাভস, সিমেন্ট |
| মুখের চারপাশ | টুথপেস্ট, লিপস্টিক, ঠোঁট চাটার অভ্যাস, কিছু ফলের খোসা |
একজিমা, দাদ নাকি কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস?
কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস দেখতে অন্য অনেক র্যাশের মতো হতে পারে।
- অ্যাটোপিক একজিমা: সাধারণত শৈশব থেকে শুরু হয়, পরিবারে হাঁপানি বা অ্যালার্জির ইতিহাস থাকে, এবং কনুইয়ের ভাঁজ ও হাঁটুর পেছনে বেশি দেখা যায়। একজিমা থাকলে ত্বকের ব্যারিয়ার দুর্বল হওয়ায় কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিসের ঝুঁকিও বাড়ে। বিস্তারিত আছে আমাদের একজিমা বিষয়ক লেখায়।
- দাদ (টিনিয়া): সাধারণত গোলাকার, কিনারা বেশি লাল ও উঁচু, মাঝখানটা তুলনামূলক পরিষ্কার, এবং ধীরে ধীরে বড় হয়। দাদে স্টেরয়েড ক্রিম লাগালে তা আরও খারাপ হতে পারে; বিস্তারিত আছে আমাদের টিনিয়া ইনকগনিটো বিষয়ক লেখায়।
- আমবাত: কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জায়গা বদলানো মসৃণ ফোলা চাকা; আঁশ বা খসখসে ভাব থাকে না।
যেহেতু চিকিৎসা আলাদা, তাই নিশ্চিত না হয়ে কোনো ক্রিম লাগানো শুরু না করাই ভালো।
কারণ নিশ্চিত করার উপায়: প্যাচ টেস্ট
অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিসে কারণ নিশ্চিত করার প্রধান পরীক্ষা হলো ডায়াগনস্টিক প্যাচ টেস্ট। এতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ সাধারণ অ্যালার্জেনগুলোর নির্দিষ্ট মাত্রা ছোট ছোট চেম্বারে রেখে পিঠে কয়েক দিনের জন্য লাগিয়ে রাখেন, তারপর নির্দিষ্ট সময় পর প্রতিক্রিয়া পড়েন। এই পরীক্ষা বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ও নির্দিষ্ট প্রস্তুত উপকরণ দিয়ে করতে হয়।
মনে রাখবেন, ঘরে নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে যে প্যাচ টেস্ট করা হয়, তা আলাদা জিনিস। সেটি একটি নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট আপনার ত্বকে সহ্য হয় কিনা তার প্রাথমিক ধারণা দেয়, কিন্তু কোন রাসায়নিকে অ্যালার্জি তা নির্ণয় করে না। ঘরোয়া প্যাচ টেস্টের নিয়ম জানতে পড়ুন আমাদের স্কিনকেয়ার প্যাচ টেস্ট গাইড। আর চুলের রঙের ক্ষেত্রে, প্রতিবার রং করার আগে প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যালার্জি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন অনেক প্রস্তুতকারক; আগে কখনো চুলের রঙে বা কালো মেহেদিতে প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে ঘরে পরীক্ষা না করে সেই পণ্য এড়িয়ে চলুন এবং চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
চিকিৎসা ও দৈনন্দিন যত্ন
১. কারণ এড়ানো: এটিই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা। কারণ খুঁজে না পেলে বা সংস্পর্শ চলতে থাকলে ওষুধে সাময়িক উপকার হলেও সমস্যা ফিরে আসে।
২. ত্বক পরিষ্কার ও শান্ত রাখা: সন্দেহজনক পদার্থের সংস্পর্শের পর জায়গাটি সাধারণ পানি ও মৃদু ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তীব্র রস বের হওয়া অবস্থায় পরিষ্কার ঠান্ডা ভেজা কাপড়ের সেঁক আরাম দিতে পারে।
৩. ময়েশ্চারাইজার: সুগন্ধিমুক্ত, সহজ উপাদানের ময়েশ্চারাইজার ত্বকের ব্যারিয়ার পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে, বিশেষত ইরিট্যান্ট ধরনে। হাত ধোয়ার পর প্রতিবার লাগানোর অভ্যাস সহায়ক। কোন উপাদান ব্যারিয়ারের জন্য উপকারী, তা নিয়ে পড়ুন আমাদের সেরামাইড ও হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বিষয়ক লেখা।
৪. চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ: প্রদাহ কমাতে চিকিৎসক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শক্তির স্টেরয়েড ক্রিম স্বল্প সময়ের জন্য দিতে পারেন। মুখ, চোখের পাতা ও ভাঁজের ত্বক পাতলা হওয়ায় সেখানে ভিন্ন সতর্কতা লাগে। নিজে থেকে দোকান থেকে কড়া স্টেরয়েড বা স্টেরয়েড-মিশ্রিত “মিক্সড ক্রিম” কিনে দীর্ঘদিন লাগানো ত্বক পাতলা হওয়া, দাগ ও সংক্রমণ লুকিয়ে ফেলার মতো ক্ষতি করতে পারে। তীব্র বা বিস্তৃত প্রতিক্রিয়ায় চিকিৎসক অন্য চিকিৎসার কথাও বিবেচনা করতে পারেন।
৫. চুলকানো নয়: চুলকালে ত্বক ফেটে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। হলুদ আবরণ, পুঁজ বা ব্যথা বাড়লে সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে।
পেশাগত ঝুঁকি থাকলে
যাদের কাজের কারণে প্রতিদিন পানি, ডিটারজেন্ট, সিমেন্ট বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকতে হয়, তাদের জন্য কিছু বাস্তব পরামর্শ:
- কাজের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত গ্লাভস ব্যবহার করুন; ভেজা কাজে গ্লাভসের ভেতরে পাতলা সুতির গ্লাভস ঘাম শুষে নিতে পারে
- গ্লাভসের ভেতরে পানি ঢুকে গেলে সঙ্গে সঙ্গে খুলে হাত শুকিয়ে নিন
- কাজের ফাঁকে এবং কাজ শেষে ময়েশ্চারাইজার লাগান
- সিমেন্টের কাজে ভেজা সিমেন্ট ত্বকে লেগে থাকতে দেবেন না; দ্রুত পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলুন
- হাতের আংটি কাজের সময় খুলে রাখুন, কারণ এর নিচে ডিটারজেন্ট ও পানি আটকে থাকে
প্রচলিত ভুল ধারণা
“অনেক বছর ব্যবহার করছি, এখন এতে অ্যালার্জি হতে পারে না।” অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস দীর্ঘদিন নিরাপদে ব্যবহারের পরও তৈরি হতে পারে।
“হার্বাল বা প্রাকৃতিক মানেই নিরাপদ।” উদ্ভিদ থেকে তৈরি অনেক উপাদানও শক্তিশালী অ্যালার্জেন। “প্রাকৃতিক” শব্দটি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়।
“কালো মেহেদি আর সাধারণ মেহেদি একই।” না। দ্রুত গাঢ় কালো রং দেওয়া পণ্যে PPD মেশানো থাকতে পারে, যা গুরুতর প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
“হাইপোঅ্যালার্জেনিক লেখা থাকলে অ্যালার্জি হবে না।” এই শব্দটি ঝুঁকি কম হওয়ার দাবি, শূন্য ঝুঁকির নিশ্চয়তা নয়। নির্দিষ্ট অ্যালার্জেন জানা থাকলে উপাদান তালিকা পড়ুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস কি ছোঁয়াচে?
না। এটি একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায় না। তবে ফোসকার রস লাগলে র্যাশ ছড়ায় বলে মনে হতে পারে; আসলে এটি আলাদা জায়গায় একই পদার্থের সংস্পর্শের ফল।
কতদিনে সারে?
কারণ এড়িয়ে চললে এবং উপযুক্ত যত্ন নিলে অনেক ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি হয়। ইরিট্যান্ট ধরনে ত্বকের ব্যারিয়ার পুরোপুরি ঠিক হতে আরও সময় লাগতে পারে, তাই র্যাশ চলে যাওয়ার পরও কিছুদিন বাড়তি যত্ন দরকার।
নিকেলে অ্যালার্জি থাকলে কী পরব?
অনেকে সার্জিক্যাল-গ্রেড টাইটানিয়াম, উচ্চ ক্যারেটের সোনা বা প্লাস্টিকের গয়নায় কম সমস্যা পান। জিন্সের বোতামের পেছনে কাপড়ের প্যাচ বা স্বচ্ছ নেইলপলিশের প্রলেপ অস্থায়ীভাবে সংস্পর্শ কমাতে পারে, তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়।
একবার চুলের রঙে প্রতিক্রিয়া হয়েছে, অন্য ব্র্যান্ড ব্যবহার করা যাবে কি?
অনেক স্থায়ী চুলের রঙে একই বা কাছাকাছি রাসায়নিক থাকে, তাই ব্র্যান্ড বদলালেও ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। পরবর্তী সিদ্ধান্তের আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
- জরুরি ভিত্তিতে: মুখ, চোখের পাতা, ঠোঁট বা জিভ দ্রুত ফুলে যাওয়া, বা শ্বাসকষ্ট — বিশেষত চুলের রং বা নতুন প্রসাধনীর পর
- চোখের কাছে, মুখে বা যৌনাঙ্গে তীব্র র্যাশ বা ফোসকা
- র্যাশ দ্রুত বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে
- পুঁজ, হলুদ আবরণ, বাড়তে থাকা ব্যথা, জ্বর — সংক্রমণের লক্ষণ
- কারণ এড়িয়ে চলার পরও দুই-তিন সপ্তাহে উন্নতি না হলে
- কাজের কারণে হাতে বারবার একই সমস্যা হলে এবং কাজ চালিয়ে যেতে কষ্ট হলে
- কোনো মলম বা ক্রিম লাগানোর পর র্যাশ আরও বাড়লে
- কারণ খুঁজে পেতে ডায়াগনস্টিক প্যাচ টেস্টের প্রয়োজন মনে হলে
