এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোরিয়াসিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যার চিকিৎসা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে পরিকল্পনা করা উচিত। সারা শরীর লাল হয়ে যাওয়া, জ্বরের সঙ্গে পুঁজভরা দানা বা হঠাৎ তীব্র অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
বারবার ফিরে আসা রুপালি আঁশের দাগ
কনুই, হাঁটু, মাথার ত্বক বা কোমরের নিচে পুরু, লালচে দাগ, তার ওপর সাদা বা রুপালি আঁশ। কয়েক মাস ভালো থাকে, তারপর আবার ফিরে আসে। অনেকেই বছরের পর বছর একে দাদ, একজিমা বা “চর্মরোগ” ভেবে একের পর এক মলম লাগান। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সোরিয়াসিস (Psoriasis)-এর দিকে ইঙ্গিত করতে পারে।
সোরিয়াসিস নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কথা শুরুতেই বলা দরকার। প্রথমত, এটি ছোঁয়াচে নয়; স্পর্শ, একসঙ্গে খাওয়া বা একই বিছানায় থাকলে ছড়ায় না। দ্বিতীয়ত, এটি অপরিচ্ছন্নতার কারণে হয় না। তৃতীয়ত, এটি এখনো স্থায়ীভাবে নিরাময়যোগ্য নয়, কিন্তু আধুনিক চিকিৎসায় বেশিরভাগ মানুষ রোগটি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
সোরিয়াসিস কেন হয়
স্বাভাবিকভাবে ত্বকের নতুন কোষ তৈরি হয়ে উপরের স্তরে উঠে আসতে এবং ঝরে পড়তে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। সোরিয়াসিসে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কিছু অংশ অতিসক্রিয় হয়ে ত্বকে প্রদাহ তৈরি করে, এবং এর ফলে ত্বকের কোষ অস্বাভাবিক দ্রুত তৈরি হয়। কোষগুলো ঠিকমতো ঝরে পড়ার সময় পায় না, জমে পুরু আঁশ তৈরি করে।
এর পেছনে জিনগত প্রবণতা ও পরিবেশগত উদ্দীপক দুটোই কাজ করে। পরিবারে কারও সোরিয়াসিস থাকলে ঝুঁকি বেশি, তবে পরিবারের ইতিহাস ছাড়াও এটি হতে পারে। যেকোনো বয়সে শুরু হতে পারে, তবে কিশোর বয়সের শেষ থেকে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের শুরুতে এবং মধ্যবয়সে বেশি দেখা যায়।
সোরিয়াসিসের ধরন
- প্লাক সোরিয়াসিস: সবচেয়ে সাধারণ ধরন। স্পষ্ট সীমানাযুক্ত, উঁচু, লালচে (গাঢ় ত্বকে বেগুনি বা বাদামি দেখাতে পারে) দাগ, যার ওপর রুপালি-সাদা আঁশ। কনুই, হাঁটু, মাথার ত্বক, কোমরের নিচের অংশ ও নাভির চারপাশে বেশি।
- স্ক্যাল্প সোরিয়াসিস: মাথার ত্বকে পুরু আঁশ, যা প্রায়ই চুলের সীমানা পেরিয়ে কপাল, কানের পেছনে ও ঘাড়ে চলে আসে। খুশকি ও সেবোরিক ডার্মাটাইটিস থেকে একে আলাদা করা নিয়ে বিস্তারিত আছে আমাদের মাথার ত্বকের আঁশ বিষয়ক লেখায়।
- গাটেট সোরিয়াসিস: শরীরজুড়ে ছোট ছোট ফোঁটার মতো দাগ, যা প্রায়ই গলাব্যথা বা গলার সংক্রমণের কয়েক সপ্তাহ পর হঠাৎ দেখা দেয়। শিশু ও তরুণদের মধ্যে বেশি।
- ইনভার্স সোরিয়াসিস: বগল, কুঁচকি, স্তনের নিচে ও নিতম্বের ভাঁজে মসৃণ, চকচকে লাল দাগ, সাধারণত আঁশ কম। এটি প্রায়ই ছত্রাক সংক্রমণ বলে ভুল হয়; কুঁচকির দাদের সঙ্গে পার্থক্য জানতে পড়ুন আমাদের কুঁচকির দাদ বিষয়ক লেখা।
- পামোপ্লান্টার সোরিয়াসিস: হাতের তালু ও পায়ের পাতায় পুরু, ফাটা ত্বক, কখনো পুঁজভরা ছোট দানা। হাঁটা ও হাতের কাজে কষ্ট হয়।
- নখের সোরিয়াসিস: নখে ছোট ছোট গর্ত, হলদেটে-বাদামি দাগ, নখ পুরু হওয়া বা নখের নিচ থেকে আলগা হয়ে যাওয়া। এটি নখের ছত্রাক সংক্রমণের মতো দেখাতে পারে।
- পাস্টুলার ও এরিথ্রোডার্মিক সোরিয়াসিস: তুলনামূলক বিরল কিন্তু গুরুতর ধরন। সারা শরীর লাল হয়ে যাওয়া, জ্বর, কাঁপুনি বা বিস্তৃত পুঁজভরা দানা হলে এটি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।
শুধু ত্বকের রোগ নয়
সোরিয়াসিসকে এখন শরীরের সামগ্রিক প্রদাহজনিত রোগ হিসেবে দেখা হয়। এর সঙ্গে কিছু সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে, যা জানা জরুরি।
সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস: সোরিয়াসিসে আক্রান্ত মানুষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের গাঁটে প্রদাহ হতে পারে। আঙুল পুরোটা ফুলে সসেজের মতো হয়ে যাওয়া, সকালে গাঁট শক্ত হয়ে থাকা, গোড়ালি বা পিঠের নিচে ব্যথা এর লক্ষণ। দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে গাঁটের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, তাই এমন লক্ষণ থাকলে চিকিৎসককে অবশ্যই জানান।
হৃদ্রোগ ও বিপাকজনিত ঝুঁকি: মাঝারি থেকে তীব্র সোরিয়াসিসে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এর একটি অংশ।
মানসিক স্বাস্থ্য: দৃশ্যমান দাগ, সামাজিক কুসংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি চুলকানির কারণে অনেকে বিষণ্নতা ও উদ্বেগে ভোগেন। এটি চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, দুর্বলতা নয়।
যেসব কারণে সোরিয়াসিস বাড়ে
- সংক্রমণ: বিশেষত গলার ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ
- মানসিক চাপ: অনেকে পরীক্ষা, পারিবারিক সমস্যা বা কাজের চাপের সময় অবনতি লক্ষ করেন
- ত্বকে আঘাত: কাটা, আঁচড়, পোড়া বা ট্যাটুর জায়গায় নতুন দাগ তৈরি হতে পারে; একে কোয়েবনার প্রতিক্রিয়া বলে। তাই চুলকানো ও ঘষে আঁশ তোলা ক্ষতিকর
- ধূমপান ও অ্যালকোহল: দুটোই রোগের তীব্রতা ও চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে
- কিছু ওষুধ: কিছু হৃদ্রোগ ও রক্তচাপের ওষুধ, লিথিয়াম, ম্যালেরিয়ার কিছু ওষুধ। নিজে থেকে কোনো ওষুধ বন্ধ করবেন না; প্রেসক্রাইবারকে সোরিয়াসিসের কথা জানান
- স্টেরয়েড হঠাৎ বন্ধ করা: মুখে খাওয়ার বা ইনজেকশনের স্টেরয়েড নিলে এবং পরে হঠাৎ বন্ধ করলে সোরিয়াসিসের তীব্র অবনতি, এমনকি পাস্টুলার ধরন দেখা দিতে পারে
- শুষ্ক আবহাওয়া: শীতকালে অনেকের অবনতি হয়
একটি গুরুতর সতর্কতা: স্টেরয়েড ট্যাবলেট ও ইনজেকশন
বাংলাদেশে অনেক সময় দ্রুত ফল দেখানোর জন্য সোরিয়াসিসে স্টেরয়েড ট্যাবলেট বা ইনজেকশন দেওয়া হয়। শুরুতে দাগ দ্রুত কমে বলে মনে হয়, কিন্তু বন্ধ করার পর রোগ আগের চেয়েও তীব্রভাবে ফিরে আসতে পারে, এবং বারবার ব্যবহারে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাড় ক্ষয়, সংক্রমণের ঝুঁকিসহ নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। আন্তর্জাতিক চর্মরোগ নির্দেশিকায় সোরিয়াসিসে মুখে খাওয়ার স্টেরয়েড সাধারণত নিরুৎসাহিত করা হয়। যদি আপনি ইতিমধ্যে এমন ওষুধ নিয়ে থাকেন, হঠাৎ বন্ধ না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। এ বিষয়ে আরও পড়ুন আমাদের প্রেসক্রিপশন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিষয়ক লেখায়।
চিকিৎসার বিকল্পগুলো
সোরিয়াসিসের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগ কতটা জায়গাজুড়ে, কোথায় (মুখ, ভাঁজ, তালু, নখ, মাথা), গাঁটে সমস্যা আছে কিনা এবং জীবনযাত্রায় কতটা প্রভাব ফেলছে তার ওপর। চিকিৎসক সাধারণত ধাপে ধাপে পরিকল্পনা করেন।
ত্বকে লাগানোর চিকিৎসা: হালকা থেকে মাঝারি রোগে প্রথম ধাপ। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শক্তির কর্টিকোস্টেরয়েড ক্রিম বা মলম, ভিটামিন-ডি জাতীয় ওষুধ, আঁশ নরম করতে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, এবং কোল টার। কোন জায়গায় কোন শক্তির ওষুধ কতদিন লাগানো নিরাপদ, তা চিকিৎসক ঠিক করেন, কারণ মুখ ও ভাঁজের ত্বকে ভুল ব্যবহারে ক্ষতি হয়।
ফটোথেরাপি: নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অতিবেগুনি আলো নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় ব্যবহার করে প্রদাহ কমানো হয়। এটি হাসপাতাল বা বিশেষায়িত কেন্দ্রে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে করা হয়। নিজে থেকে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা এর বিকল্প নয় এবং রোদে পোড়া সোরিয়াসিস বাড়াতে পারে।
মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশনের চিকিৎসা: মাঝারি থেকে তীব্র রোগ, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস, বা লাগানোর ওষুধে কাজ না হলে বিশেষজ্ঞ কিছু সিস্টেমিক ওষুধ বা বায়োলজিক চিকিৎসার কথা বিবেচনা করেন। এগুলোর প্রতিটির জন্য নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, এবং গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকে জানানো জরুরি।
কোল টার: একটি পুরনো কিন্তু প্রমাণিত উপাদান
কোল টার বহু দশক ধরে সোরিয়াসিস, বিশেষত মাথার ত্বকের সোরিয়াসিস ও সেবোরিক ডার্মাটাইটিসে ব্যবহৃত একটি উপাদান, যা ত্বকের কোষের অতিরিক্ত বৃদ্ধি ধীর করে আঁশ, লালভাব ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। আমাদের Adora CT Shampoo-এর প্রোডাক্ট তথ্য অনুযায়ী এতে কোল টারের সঙ্গে জিংক পাইরিথিওন (ZPTO), স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, অ্যালোভেরা ও গ্লিসারিন রয়েছে, এবং এটি মাথার ত্বকের জন্য তৈরি।
কোল টার ব্যবহারের আগে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার: এর একটি স্বতন্ত্র গন্ধ আছে, হালকা রঙের চুলে সাময়িক রং পরিবর্তন ঘটাতে পারে, এবং ত্বককে সূর্যালোকে বেশি সংবেদনশীল করে। কোল টার শ্যাম্পু সাধারণত প্রতিদিন নয়, সপ্তাহে নির্দিষ্ট কয়েকবার ব্যবহার করা হয়; কতবার ব্যবহার করবেন তা প্যাকের নির্দেশনা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করুন। মনে রাখবেন, শ্যাম্পু মাথার ত্বকের সহায়ক যত্ন; শরীরের অন্য জায়গার সোরিয়াসিস বা গুরুতর রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়, এবং শুরু করার আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে রোগনির্ণয় নিশ্চিত করা ভালো।
দৈনন্দিন যত্ন: যা আপনার হাতে আছে
- নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার: ঘন, সুগন্ধিমুক্ত ময়েশ্চারাইজার বা মলম আঁশ নরম রাখে, চুলকানি কমায় এবং ফাটা প্রতিরোধ করে। গোসলের পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই লাগানো বেশি কার্যকর। শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার বাছাই নিয়ে পড়ুন আমাদের ময়েশ্চারাইজার বাছাইয়ের গাইড।
- কুসুম গরম পানি ও মৃদু ক্লিনজার: খুব গরম পানি ও কড়া সাবান ত্বক আরও শুষ্ক করে।
- আঁশ ঘষে তুলবেন না: জোর করে আঁশ তুললে রক্তক্ষরণ ও নতুন দাগের ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে আঁশ নরম করার উপাদান ব্যবহার করুন।
- ধূমপান ত্যাগ ও অ্যালকোহল কমানো: রোগ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্স্বাস্থ্য দুটোর জন্যই উপকারী।
- ওজন ও শারীরিক সক্রিয়তা: অতিরিক্ত ওজন সোরিয়াসিসের তীব্রতার সঙ্গে সম্পর্কিত, এবং কিছু গবেষণায় ওজন কমানোর পর উন্নতি দেখা গেছে।
- মানসিক চাপ সামলানো: পর্যাপ্ত ঘুম, হাঁটা, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং।
- একটি নোট রাখুন: কখন বাড়ে, কী খেয়েছিলেন বা কী ঘটেছিল — এটি চিকিৎসককে উদ্দীপক চিনতে সাহায্য করে।
প্রচলিত ভুল ধারণা
“সোরিয়াসিস ছোঁয়াচে।” না। এই ভুল ধারণার কারণে অনেক রোগী সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হন, যা একেবারেই অন্যায্য।
“এটি এক ধরনের দাদ, ছত্রাকের ক্রিম লাগালেই সারবে।” সোরিয়াসিস ছত্রাক সংক্রমণ নয়। ছত্রাকনাশক ক্রিমে এটি সারে না, এবং বছরের পর বছর ভুল চিকিৎসায় সময় নষ্ট হয়।
“চিরতরে সারানোর গ্যারান্টি।” যে কোনো তেল, হার্বাল মিশ্রণ বা চিকিৎসা “স্থায়ী নিরাময়”-এর প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক হোন। এখন পর্যন্ত সোরিয়াসিসের স্থায়ী নিরাময় প্রমাণিত নয়; লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ।
“নির্দিষ্ট খাবার বাদ দিলেই সেরে যাবে।” কোনো একক খাবার বাদ দিয়ে সোরিয়াসিস সারে বলে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। স্বাস্থ্যকর, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণ সামগ্রিকভাবে উপকারী।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
সোরিয়াসিস কি বংশগত?
জিনগত প্রবণতা আছে, তাই পরিবারে কারও থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। তবে বাবা-মায়ের থাকলেই সন্তানের হবে, এমন নয়।
গর্ভাবস্থায় কী হয়?
কারও কারও গর্ভাবস্থায় উন্নতি হয়, কারও অবনতি। অনেক সিস্টেমিক ওষুধ গর্ভাবস্থায় নিরাপদ নয়, তাই গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে আগেই চিকিৎসককে জানান।
রোদে গেলে কি উপকার হয়?
কিছু মানুষ মাঝারি রোদে উন্নতি লক্ষ করেন, কিন্তু রোদে পোড়া সোরিয়াসিস বাড়াতে পারে এবং কিছু ওষুধ ও কোল টার রোদে সংবেদনশীলতা বাড়ায়। চিকিৎসার জন্য রোদ ব্যবহার না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
নখে গর্ত আর হলুদ দাগ — ছত্রাক নাকি সোরিয়াসিস?
দুটো দেখতে কাছাকাছি হতে পারে, এমনকি একসঙ্গেও থাকতে পারে। নখের সামান্য অংশ পরীক্ষা করে চিকিৎসক পার্থক্য নিশ্চিত করতে পারেন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
- জরুরি ভিত্তিতে: সারা শরীর লাল হয়ে যাওয়া, জ্বর, কাঁপুনি, বিস্তৃত পুঁজভরা দানা, বা শরীর থেকে তাপ ও পানি হারানোর মতো দুর্বলতা
- প্রথমবার পুরু, আঁশযুক্ত, বারবার ফিরে আসা দাগ দেখা দিলে — রোগনির্ণয় নিশ্চিত করতে
- গাঁটে ব্যথা, ফোলা, সকালে গাঁট শক্ত হয়ে থাকা বা আঙুল ফুলে যাওয়া
- স্টেরয়েড ট্যাবলেট বা ইনজেকশন বন্ধের পর হঠাৎ অবনতি
- বর্তমান চিকিৎসায় কয়েক সপ্তাহে উন্নতি না হলে
- মুখ, যৌনাঙ্গ, হাতের তালু বা পায়ের পাতায় দাগ, বা কাজ ও চলাফেরায় বাধা
- রোগের কারণে ঘুম, মনোবল বা সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে
- গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে বা গর্ভাবস্থায় চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে
